tech-talk

THE FUTURE COMPUTER (IN BENGALI) PART I

 

 

বছরের পর বছর ধরে আমাদের পারসােনাল কম্পিউটারের একটা অতিচেনা রূপ আমাদের চিন্তাভাবনা ও চেতনায় স্থান করে নিয়েছে। সেই মনিটর, কিবাের্ড, মাউস এবং তার পাশে কালাে একটা বাক্স। এরপর আমাদের কম্পিউটার

সংক্রান্ত চিন্তাভাবনাকে পাল্টে দিতে দৃশ্যপটে | আবির্ভূত হল ল্যাপটপ কম্পিউটার। ডেস্কটপ বছরের পর বছর ধরে আমাদের পারসােনাল কম্পিউটারের একটা অতিচেনা রূপ আমাদের চিন্তাভাবনা ও চেতনায় স্থান করে নিয়েছে। সেই মনিটর, কিবাের্ড, মাউস এবং তার পাশে কালাে একটা বাক্স। এরপর আমাদের কম্পিউটার সংক্রান্ত চিন্তাভাবনাকে পাল্টে দিতে দৃশ্যপটে | আবির্ভূত হল ল্যাপটপ কম্পিউটার। ডেস্কটপ আইপ্যাডের আবির্ভাবের পরও আজ বেশ কয়েক বছর কেটে গেল। আমরা এখন আবার কম্পিউটারের ভুবনে নতুন সব পালাবদলের সামনে দাড়িয়ে আছি। আমাদের মনে স্বভাবতই | তাই প্রশ্ন জাগছে – কেমন হবে কম্পিউটারের পরবর্তী চেহারা? আর নতুন কি দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা? অদূর এবং সুদূর ভবিষ্যতে? | এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই যে, ভবিষ্যতের কথা বলাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যাপার। কারণ

ভবিষ্যতের গর্ভে কী লুকিয়ে আছে সেটি ভবিষ্যৎই বলতে পারে। কিন্তু অতীতের ধারাবাহিকতায় এবং বর্তমানে আগামি দিনের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের যে কয়েকটি নমুনা আমরা দেখতে পাচ্ছি তার। আলােকে অদূর ও দূর ভবিষ্যতের কম্পিউটার প্রযুক্তির একটি চেহারা কল্পনা করা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার নয়।

কম্পিউটারকে পাল্টে দিচ্ছে যেসব প্রযুক্তি একটি নয়, বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কম্পিউটারকে আমূল বদলে দেয়ার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে। এসেছে। আসুন তার মধ্যে কয়েকটি সম্বন্ধে এই ফাকে জেনে নিই।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি : ইতােমধ্যেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রাথমিক চেহারার সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে গিয়েছে। হ্যা, আমি গুগল কার্ডবাের্ড (Google Cardboard) ও স্যামসাং গিয়ার ভিআর (Samsung Gear VR)-এর কথাই বলতে চাচ্ছি। তবে এ দুটো মডেলের মধ্যে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং তারা যেসব সফটওয়্যারে চলে সেগুলাে আসলে স্রেফ মােবাইল অ্যাপ যেগুলাে একটি পিসির পূর্ণশক্তির ভগ্নাংশ মাত্র আমাদেরকে দিতে পারে। আশা করা যায় অল্পদিনের মধ্যে ভিআর জগতের আসল হেভিওয়েটরা আমাদের সামনে এসে হাজির হবে, তাদের সাথে থাকবে। ডেডিকেটেড ডিসপ্লে, পজিশনাল ট্র্যাকিং ও ভিআর কন্ট্রোলারের নতুন ডিজাইন। আমরা যেভাবে গেম খেলি, ব্যবসা করি ও সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিই তার সবকিছুই ভার্চুয়ার রিয়েলিটির প্রভাবে বেশ খানিকটা পাল্টে যাবে বলে আমাদের ধারণা। তবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির এসব ডিভাইসকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের। নাগালের মধ্যে দামে পেতে হবে, নাহলে এগুলাের ব্যাপক ও বহুমুখী ব্যবহার কখনােই সম্ভব হবে না।

অগমেন্টেড রিয়েলিটি : ভার্চুয়ার রিয়েলিটির খুবই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হচ্ছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি। আমাদের স্মার্টফোনগুলােতে অগমেন্টেড রিয়েলিটির

প্রয়ােগ আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই হয়ে আসছে। দুটোর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, ভার্চুয়ার রিয়েলিটি আমাদেরকে ১০০ ভাগ ডিজিটাল

অভিজ্ঞতা উপহার দেয়, অন্যদিকে অগমেন্টেড রিয়েলিটি আমাদের বাস্তব জীবনের ওপরই ডিজিটাল বাস্তবতার একটি প্রলেপ বিছিয়ে দেয়। মাইক্রোসফট-এর হালােলেন্স। (HoloLens)-এর কথাই ধরুন। এটিঅগমেন্টেড রিয়েলিটির ভালো একটি উদাহরণ। | এর সাহায্যে আমরা মাইনক্রাফট গেমের জোম্বি | ও ক্রিপারদের সাথে যুদ্ধ করতে পারি আমাদের | ড্রয়িংরুমের সােফায় বসেই অগমেন্টেড রিয়েলিটির বদৌলতে মেডিক্যার ছাত্ররা তাদের ক্লাসরুমে বসেই একটি মানব হৃদপিণ্ডের থ্রিডি মডেল দেখতে পারবে। সাধারণ মানুষও ঘরে বসেই দেখে নিতে পারবে ভেঙে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক সুইচ কিভাবে মেরামত করতে হবে। | তবে কেবল মাইক্রেসফটই যে অগমেন্টেড রিয়েলিটি নিয়ে কাজ করছে তা নয়। এক্ষেত্রে আরেকটি উল্লেখযােগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ম্যাজিক লিপ (Magic Leap), নিজেদের কর্মকাণ্ডকে গােপনীয় রাখায় সচেষ্ট একটি কোম্পানি, যারা অগমেন্টেড রিয়েলিটি নতুন নতুন সব ডিভাইস তৈরিতে ব্যস্ত আছে। এছাড়ও আরেকদল প্রকৌশলী ব্যস্ত আছেন কাস্টএআর (CastAR) নামে নতুন আরেকটি অগমেন্টেড রিয়েলিটি ডিভাইস তৈরির কাজে। তবে এদের বিভিন্ন ডিভাইস যে কখন আমজনতার ব্যবহারের উপযােগী হবে সেটি জানা যায়নি।

ইন্টেলের ওয়্যারলেস ভবিষ্যৎ গেম খেলা, নানা রকমের কাজ করা, ইন্টারনেট সার্ফিং ইত্যাদির জন্য পারসােনাল কম্পিউটার

| তথা পিসির কোনাে বিকল্প নেই। কিন্তু পিসিতে প্রচুর পরিমাণে তার বা ওয়্যার-এর প্রয়োজন হয়। ইন্টেলের পরিকল্পনা হচ্ছে কম্পিউটার, প্রিন্টার ইত্যাদি যন্ত্র থেকে সাপের মত এঁকেবেঁকে বেরিয়ে আসা এসব তার থেকে আমাদের ভারমুক্ত করতে। তারা আসলে তারবিহীন এক পিসির স্বপ্ন দেখছে। এজন্য WiGig নামে একটি স্ট্যান্ডার্ডকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে ইনটেল। এটি হচ্ছে ওয়্যারলেস গিগাবিট ডাটার একটি লিংক যেটি বর্তমানে ডেল ও এইচডি উভয়ই সমর্থন করছে। WiGig মনিটর, হার্ড ড্রাইভ ও অন্যান্য পেরিফেরালকে তারবিহীনভাবে পিসির সাথে সংযুক্ত করতে পারে। এছাড়াও ইন্টেল তারবিহীনভাবে আমাদের ল্যাপটপকে চার্জ | দেয়ার একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এজন্য তৈরি হবে একটি বিশেষ প্যাড, যেটি ২০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ল্যাপটপকে তারবিহীনভাবে চার্জ দেয়ার প্রযুক্তি খুব দ্রুতই আমজনতার হাতে এসে যাবে।

পারসেপচুয়াল কম্পিউটার | এটি বেশ কয়েক বছর ধরেই ইন্টেলের একটি প্রিয় প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। | Perceptual computing-এর মুল

ব্যাপারটা হচ্ছে, ইনপুট বা জয়স্টিকের মতাে প্রথাগত পদ্ধতি ব্যবহার করে আমাদের সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে কম্পিউটারের সাথে মিথস্ক্রিয়া বা যােগাযােগ করা। কাজেই কিবাের্ডের পরিবর্তে আপনি হয়ত হাতের ইশারায় কম্পিউটারের সাথে যােগাযােগ করবেন। ভিডিওতে ‘পজ বাটনে ক্লিক করার পরিবর্তে হয়ত চোখের পলক ফেলার মাধ্যমে ‘পজ করবেন। তবে বাণিজ্য মেলার বাইরে প্রাত্যহিক জীবনে কনসেপচুয়াল কম্পিউটিংকে নিয়ে আসার জন্য আমাদের প্রয়ােজন হবে সঠিক ইকুইপমেন্টে উইন্ডােজ ১০ ল্যাপটপ-এর সাথে RealSense ক্যামেরার যােগসাজশে এই কাজটি করা যাবে। এটির সাথে সংযােগ আছে উইন্ডােজ হ্যালাে বায়ােমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেমের, যা কোনাে পাসওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা ছড়িই আপনার মুখাবয়বকে চিনেই খুলে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *