THE FUTURE COMPUTER (In BENGALI) part II
tech-talk

THE FUTURE COMPUTER (In BENGALI) part II

ওয়াল কম্পিউটিং:

গােটা দেয়ালের সমান একটি কম্পিউটার নিয়ে মাইক্রোসফট-এর স্বপ্ন এখনও বর্তমান। সারফেস হাব নামের নতুন দিনের টাচস্ক্রিনের

মাধ্যমে এই স্বপ্নটি পূরণে মাইক্রোসফট সমানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ৮৪ ইঞ্চি আকারের এই ফোর-কে বিজনেস ফোকাসড টাচস্ক্রিনটি | অসাধারণ একটি ডিভাইস তাতে সন্দেহ নেই।

উইন্ডােজ ১০-এ চলা এই টাচস্ক্রিনটিকে সাধারণ | পিসিকে যেসব কাজে ব্যবহার করা হয় তার

সবগুলাের জন্যই ব্যবহার করা যাবে। তবে | বিশেষ সুবিধা আছে একেবারে জীবন্ত ভিডিও | কনফারেন্সিং আর প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থা। মাইক্রোসফট যে কেবল বিশাল একটি পিসি তৈরি করতে চাচ্ছে তাই নয়, হােয়াইটবাের্ডের পরিপূর্ণ ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে তারা কনসেপ্টটিকে পরিপূর্ণ একটি রূপ দিতে চাচ্ছে।

বেক্তি ট্যাবলেট:

২০১১ সালে মাইক্রোসফট মডিউলার কার্ড সিস্টেম নামে নতুন একটি কনসেপ্টের কথা ঘােষণা করে যেটি ২০১৯ সাল নাগাদ আমাদের

স্মার্টফোনগুলাের জায়গা নিয়ে নেবে বলে বলা। হয়েছিল। বােঝাই যাচ্ছে, তাদের সে ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়নি। তাদের নতুন ভিশনগুলাের আরেকটি ছির মাউসপ্যাড় ধরনের একটি বস্তু | যেটিকে বাঁকানাে বা পােটানাে যাবে। পরবর্তীতে

প্লাস্টিক লজিক নামে একটি কোম্পানিও নমনীয় | ডিসপ্লে নিয়ে প্রচুর গবেষণা করে। এলজিও | একটি বাঁকানাে যাবে এমন প্লাস্টিক ডিসপ্লে নিয়ে কাজ করে আসছে ২০১০ সাল থেকেই, এমনকি স্যামসাংও এ ব্যাপারে পিছিয়ে থাকেনি। ২০১৩ সালে তারা স্যামসাং গ্যালাক্সি রাউন্ড নামে একটি নমনীয় ডিসপ্লে তৈরিও করে ফেলে, কিন্তু এটি আসলে ছিল কিচুটা বাঁকানাে একটি ডিসপ্লে, সত্যিকারের নমনীয় পর্দা নয়। ২০০৯ সালে প্লাস্টিক লজিক একটি ই রিডার

এর ডেমাে করে। এর একটি নামও দিয়েছিল | তারা – কিউ। তবে এটিকে কখনােই বাজারে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি তারা।

| কম্পিউটারের সাথে যােগাযোগঃ

ভবিষ্যতের আয়নায়

আজ থেকে ৫০ বছর আগে বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডগলাস এঙ্গেলবার্ট কয়েকটি অসাধারণ নতুন প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনী করেছিলেন, আর উপস্থাপন করেছিলেন একটি অসাধারণ কিনােট পেপার যেটিকে বলা হয় দি মাদার অব ডেমােস। ঐ এক ডেমনস্ট্রেশনে তিনি কম্পিউটার মাউস, গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস, হাইপারটেক্সট, ভিডিও কনফারেন্সিং ইত্যাদি প্রযুক্তি হাতেকলমে দেখিয়েছিলেন। অ্যাপল যদি একটিমাত্র অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ম্যাকিনটশ, আইফোন, আইপ্যাড ও আইপড় একটিমাত্র অনুষ্ঠানে ডেমনস্ট্রেশন করত তবে তার সাথে এর তুলনা টানা যেত । এঙ্গেরবার্টের সেই ঐতিহাসিক ডেমাের অর্ধ শতাব্দী পর এখনও আমরা তার হাতে গড়া প্রযুক্তিগুলোর মাধ্যমেই কম্পিউটারের সাথে ইন্টার্যাক্ট করে চলেছি। তবে যেসব উপাদানের সাহায্যে আমরা এই কাজটি করছি সেগুলাে অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে এবং অদূর ভবিষ্যতে আমরা যেসব উপকরণ ব্যবহার করে কম্পিউটাররে সাথে ভাবের আদানপ্রদান তথা মিথস্ক্রিয়া করব সেগুলাের মধ্যে আছে –

ভয়েস কন্ট্রোল আজ থেকে কয়েক বছর আগেও ভয়েস কন্ট্রোল তথা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিধি ছিল খুবই সীমিত। আপনার ডিকটেশন শুনে কম্পিউটার কোনাে কিছু মােটামুটি টাইপ করতে পারলেও চোখে সমস্যা আছে এমন ব্যক্তি ছাড়া আর কারও জন্যই এটি | খুব কার্যকর কোনাে মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হত না। বর্তমানে কিছু ভয়েস কন্ট্রোলের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। গুগল হােম ও আমাজন ইকোর মত স্মার্ট স্পিকার কেবল আমরা কী বলি সেটা শােনেই না, বােঝারও যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে। ভয়েস কন্ট্রোল বর্তমানে কম্পিউটারের সাথে আমাদের ইন্টার্যাকশনকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করেছে, কম্পিউটারকে দিয়ে কাজ করাতে হলে ঠিক যে সেটির সামনেই আসন গেড়ে বসে থাকতে হবে সেই বাধ্যবাধকতা থেকেও আমাদের মুক্তি দিয়েছে। কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যারের লেআউট সম্বন্ধে কষ্ট করে শেখার পরিবর্তে স্রেফ সেটাকে মুখে মুখে নির্দেশ দিয়ে চালনা করা নিশ্চয়ই অনেক সুবিধাজনক। ভয়েস কন্ট্রাল সেই সুবিধাটিই আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে।

ইমােশন সেন্সিং: কম্পিউটারকে আপনি নির্দেশ দিলেন, সেটি শুনে শুনে সেইমত কাজ করল – এটা নিঃসন্দেহে ভালাে একটা ব্যাপার। কিন্তু তার চেয়েও ভাল হচ্ছে, আপনি বলার আগেই যদি সেটি আপনার মনের ভাব বুঝে কাজ করে ফেলতে পারে! আর এখানেই আসছে ইমােশন ট্র্যাকিং টেকনােলজির প্রাসঙ্গিকতা। এটি আসলে নিজে সেই অর্থে কোনাে ইন্টারফেস নয়, বরং ইন্টারফেসকে উন্নত করার একটি উপায়। তারপরও, ইমােশন সেন্সিং-কে কাজে লাগিয়ে ইউজাররা প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন পরামর্শ পেতে পারেন – যার ভিত্তি হবে। ইউজার কখন কেমন বােধ করছেন সেটি।

জেশ্চারাল সেন্সিং: আমরা ইতােমধ্যে জেশ্চার বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ইশারা ইঙ্গিতের সাহায্যে কম্পিউটারকে দিয়ে কাজ করানাের সীমিত সামর্থ্য অর্জন করে ফেলেছি। আশার কথা হচ্ছে জেশ্চার বা ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে কম্পিউটারকে দিয়ে কাজ করানাের সুবিধা দ্রুত উন্নতিলাভ করছে। যেমন, কম্পিউটার কিন্তু এখন আমাদের হাত ও শরীরের নড়াচড়াকে আগের তুলনায় অনেক ভালােভাবে বুঝতে পারছে। এজন্য স্ক্রিনের সাথে শরীরের স্পর্শ ঘটানাের প্রয়ােজনও হচ্ছে না। কাইনেক্ট (Kinect) ধরনের ডিভাইসগুলাে গেমিং-এর ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অ্যাপলএর মত কয়েকটি কোম্পানি এটি নিয়ে নানারকম পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে, তবে আমজনতার জন্য এটি পুরােপুরিভাবে এখনও প্রস্তুত হয়নি। ইমেজ রিকগনিশন ছাড়াও জেশ্চার সেন্সিং-এর আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হল স্মার্ট পরিবেশের সাথে যােগাযােগ, যা নিয়ে নানারকম কাজ হয়ে চলেছে।

প্রি-টাচ: টাচস্ক্রিন খুব ভালাে জিনিস সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের ব্যস্ত বিশ্বে টাচস্ক্রিনকে টাচ করার সময় কয়জনের আছে! কারাে না। এ কারণেই saম্যামসাং থেকে শুরু করে অ্যাপল পর্যন্ত সারা পৃথিবী জুড়ে স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রি টাচ সেন্সিং-এর ওপর নানারকম কাজ করছেন। স্যামসাং-এর বর্তমানে ব্যবহৃত এয়ার জেশ্চার টেকনােলজি এরই একটি উদাহরণ। এখানে প্রযুক্তির মূর ফোকাসটা হল, আপনার আঙ্গুল স্ক্রিনকে টাচ করার আগেই ঘটনা ঘটবে। অর্থাৎ আঙ্গুলকে স্ক্রিনের ওপরে নিয়ে গেলেই হবে। এইট আইফোনের থ্রিডি টাচ ফিচারের মতাে। অর্থাৎ আপনি কোনাে ফাইল বা ফোল্ডারের ওপর আঙ্গুল নিয়ে গেলেই সেটি আপনাকে প্রিভিউ দেখাবে। তখন আপনিই ঠিক করবেন এটি আপনি দেখবেন কিনা বা খুলবেন কিনা।

স্পর্শের বাইরে কিছুই থাকবে না : টাচ টেকনােলজি কিন্তু বর্তমানে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির গবেষকবৃন্দ এমন একটি স্পর্শভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যেটি সফর হলে যে কোনাে সারফেসেই স্পর্শের মাধ্যমে কাজ করা যাবে। সেটি হতে পারে ঘরের দেয়াল, মানুষের শরীরের ইত্যাদি যে কোনাে কিছু। কেবল স্মার্টওয়াচ বা ট্যাবলেট কম্পিউটারের মত ছােট জায়গার মধ্যেই কেন এটি সীমাবদ্ধ থাকবে। সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি চারপাশের সবকিছুকেই টাচ সেনসিটিভ করে তােলা যায়? বর্তমানে স্মার্ট হােম নিয়ে নানারকম গবেষণা ঘটে চলেছে। ভার্চুয়াল বাটন ধরনের কিছু একটা দিয়ে যাতে ঘরদোরের যাবতীয় বস্তুকে পরিচালনা করা যায় সেটিই ঘটানাের চেষ্টা চালাচ্ছে স্মার্ট হােমের সাথে জড়িত নানা প্রযুক্তি। এটি করা গেলে ভবিষ্যদ্বক্তা মার্ক ওয়াইজার-এর কথা সত্যি হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘সেরা প্রযুক্তি হচ্ছে সেটাই যেটিকে এমনভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলা যায় যে এক পর্যায়ে সেটিকে আমাদের জীবন থেকে আলাদা করে চেনাই যাবে না।’

ব্রেইন ইন্টারফেস : কম্পিউটার ইন্টারফেসের ক্ষেত্রে ছড়ান্ত ইন্টারফেস নিশ্চয়ই সেটি যেটি আমাদেরকে | কেবল ভাবনা ছাড়া আর কিছুই করতে দেয় না। অর্থাৎ, আমরা কিছু একটা সম্বন্ধে স্রেফ ভাবিব, আর সাথে সাথে সেই কাজটা হয়ে যাবে। এটিই হচ্ছে ব্রেইন ইন্টারফেস। এটি আমাদের কাজ করাকে অনেক বেশি সহজ করে দেবে, কারণ আমাদের হাত-পা সবই অন্যান্য কাজ করার জন্য ফ্রি থাকবে। DARPA-র মত কোনাে কোনাে প্রতিষ্ঠান ইতােমধ্যে ব্রেইন ইন্টারফেস নিয়ে গবেষণা করে চলেছে। এলন মাস্ক নিউরালিংক নামে একটি প্রকল্পের চিন্তা করছেন যেটি সাইবারনেটিক ইমপ্লান্ট-এর মাধ্যমে মানুষকে সাইবর্গ বানানাের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *